দেশের পুঁজিবাজারে তিনদিন ধরে সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এতে চার মাস আগের অবস্থানে ফিরে গেছে পুঁজিবাজার।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুতে আধা ঘণ্টা ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। তবে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাজারে দোদুল্যমান অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাবের কারণে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে পয়েন্ট হারাতে থাকে সূচক। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা, আইএমএফের ঋণ নিয়ে আলোচনা, প্রাক-বাজেট আলোচনায় কর বাড়ার গুঞ্জন এবং সম্প্রতি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এসব কারণেই পুঁজিবাজারে টানা কয়েক কার্যদিবস ধরে বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে।
দিন শেষে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২৬ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ১৫ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক গতকাল ৭ দশমিক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৪৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ৩৯৬ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪৪৬ কোটি টাকা। এদিন লেনদেন হওয়া ৩৯৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ১১৯টির, কমেছে ২১০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৬৮টির বাজারদর।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ৮ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত ৮ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল। পঞ্চম অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে খাতভিত্তিক রিটার্নের ক্ষেত্রে সাধারণ বীমা খাতে দশমিক ৯ শতাংশ, বস্ত্র খাতে দশমিক ৬ ও এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দশমিক ৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে এদিন মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ২ দশমিক ৬ শতাংশ, সেবা ও আবাসন খাতে ২, সিমেন্ট খাতে ১ দশমিক ৪ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ২৬ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৭২৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ৪৮ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৩২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২০৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬২টির, কমেছে ১২১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।